২০২৫-২৬ করবর্ষে দেশটিতে বার্ষিক ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করা ব্যক্তির সংখ্যা ৫৭৬ জনে পৌঁছেছে। চার বছর আগে ২০২১-২২ করবর্ষে এ সংখ্যা ছিল ১৪২। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
সম্প্রতি ভারতের লোকসভায় দেয়া এক লিখিত জবাবে এ-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, আগের বছরের তুলনায় শতকোটি রুপি আয়কারীর সংখ্যা এবার ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের আয়কর আইন অনুযায়ী, ‘বিলিয়নেয়ার’ শব্দের কোনো নির্দিষ্ট আইনি বা সংবিধিবদ্ধ সংজ্ঞা নেই। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, সরকার করদাতাদের মোট অর্জিত সম্পদের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংরক্ষণ করে না। তাই আয়কর রিটার্নে উপস্থাপিত বার্ষিক আয়ের ওপর নির্ভর করেই এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে ডলার বিলিয়নেয়ার বা শতকোটি ডলার সম্পদের মালিক রয়েছেন ২২৯ জন। অন্যদিকে ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ ধনীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ভারতের ২৩ জন।
ভারতে উচ্চ আয়ের মানুষের সংখ্যা বাড়লেও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক বজায় রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট ২০২৬ অনুসারে, ভারতে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের মোট জাতীয় আয়ের প্রায় ৫৮ শতাংশ যাচ্ছে শীর্ষ ১০ শতাংশ উপার্জনকারীর পকেটে। বিপরীতে নিচের সারির ৫০ শতাংশ মানুষ পান ১৫ শতাংশ আয়।
তবে স্থানীয় বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যে উঠে এসেছে, কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কা সামলে ভারতের শ্রমবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ১৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের বেকারত্বের হার কমে নেমেছে ৩ দশমিক ১ শতাংশে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার বেশকিছু নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে। প্রগতিশীল আয়কর ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।